"শিকড়হীন সৌন্দর্যের গল্প"
এক বিকেলের গল্প—বৃষ্টি থেমে গেছে, জানালার বাইরে ভেজা মাটি থেকে উঠছে কাঁচা ঘাসের গন্ধ। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনোরম দৃশ্যে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। জানালার পাশে বসে একটি গল্পের বই পড়ছিল মালতি। হঠাৎ তার চোখ যায় ,জানালার ধারে রাখা টবের মধ্যে, তাতে ফুটে আছে একঝাঁক রঙিন ফুল—হলুদ, গোলাপি, বেগুনি, আর মাঝখানে একটিমাত্র সাদা ফুল, যেন দলনেতা হয়ে বাকি সবাইকে হাসিয়ে তুলছে। হাওয়ায় দুলছে ধীরে ধীরে তারা। মালতির মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা। এই ফুলগুলোর জন্ম কেমন করে?
এরা মাটিতে বোনা বীজ থেকে আসেনি, বরং জন্ম নিয়েছে রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া ডিমের ট্রে থেকে। ছেলেবেলা থেকেই আঁকাআঁকি ভালোবাসেন মালতি, একদিন বাজার থেকে ডিম কিনে এনে খালি ডিমের ট্রেটা হাতে নিয়ে ফেলতে যাবার সময় মনে হলো—এই কার্ডবোর্ডের ছোট ছোট গর্তগুলো যেন পাপড়ি হওয়ার অপেক্ষায়। কাঁচি দিয়ে কেটে, তুলি দিয়ে রঙ করে, আর একটু ভালোবাসা মিশিয়ে তিনি বানিয়ে ফেললেন এই কাগুজে ফুল। রঙ করলেন সকাল-বিকেলের আলোর মতো উজ্জ্বল সব বর্ণে, আর মাঝখানে বসালেন ছোট্ট কমলা রঙের পরাগদানা। আজ সেই ফুলগুলো পাতার মাঝে সাজিয়ে রাখা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন প্রকৃতি আর মানুষ মিলে একসাথে আঁকেছে রঙের ছবি। আর এই কাজটি যেন বলে—সৌন্দর্য সবসময় জন্ম নেয় না মাঠে বা বাগানে, কখনো কখনো তা জন্ম নেয় সৃষ্টিশীল মনের কল্পনায়। যখন বৃষ্টির শেষের সোনালী রোদ্দুর এসে সেই ফুলের গায়ে পড়ে, তখন মনে হয়, এরা যেন জানালার এপাশ থেকে বাইরে তাকিয়ে বলছে—"আমরা মাটি ছুঁইনি, তবু আমরা ফুটেছি, কারণ সৌন্দর্যের জন্য সবসময় শিকড় লাগে না, লাগে শুধু সৃষ্টিশীল হৃদয়" ।
ভাবতে ভাবতে মুচকি হাসলো মালতি। চোখ ফিরিয়ে নিল বইয়ের দিকে পড়তে পড়তে দু থেকে তিনবার আবার ফিরে তাকালো টবের ওই ফুলের দিকে, চশমাটা খুলে রাখল বইয়ের উপর , এবার বাইরের দিকে তাকালো সে, তার চোখে জল, বইয়ের গল্পের সাথে সাথে ওই কাগুজে ফুলগুলির মিল খুজতে চাইছিল মালতি ।।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ার জন্য । ভালো লাগলে কমেন্ট লাইক করতে ভুলবেন না।



❤️
ReplyDeleteNice
ReplyDelete❤️
ReplyDeleteDarun
ReplyDeleteDarun
ReplyDeleteLovely 🌹
ReplyDeleteKhub sundor 💗
ReplyDeleteWow it's very beautiful 😍❤️
ReplyDeletefantastic story
ReplyDeleteKhub sundor
ReplyDelete